আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : শিকাগোর তীব্র বন্দুক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে, হোয়াইট হাউস একটি অদ্ভুত তুলনা টেনেছে। নতুন দিল্লির 'নিম্ন হত্যাকাণ্ডের হার'কে হাতিয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসন শিকাগোতে ফেডারেল হস্তক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ২০২৪ সালে শিকাগোর হত্যাকাণ্ডের হার ভারতের রাজধানীর তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিকাগোতে প্রতি ১ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে ২৫.৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে নতুন দিল্লিতে এই সংখ্যা ১.৪৮। তবে, লেভিট তার দেওয়া তথ্যের কোনো উৎস উল্লেখ করেননি। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ২০২২ সাল থেকে ভারতের কোনো অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমেরিকান শহরগুলোতে সহিংস অপরাধ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে এবং শিকাগোর হত্যাকাণ্ডের হারের সঙ্গে নয়াদিল্লির তুলনা টেনেছে। হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে যে, ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলোতে জননিরাপত্তার জন্য ফেডারেল হস্তক্ষেপ অপরিহার্য, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে নাকচ করে দিয়েছে।ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসি এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে শিকাগো।
তিনি বলেন, “আমরা অন্যান্য শহরগুলোকেও নিরাপদ করব। শিকাগো একটি বিশৃঙ্খল জায়গা। সম্ভবত এটিই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে।” তিনি আরও বলেন, সেখানকার বাসিন্দারা তাকে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ করছেন।শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শহরের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালে শিকাগোর হত্যাকাণ্ডের হার প্রতি ১ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে ২৫.৫, যা নয়াদিল্লির ১.৪৮ এর তুলনায় ১৫ গুণ বেশি।
তিনি হোয়াইট হাউসের একটি চার্টও উপস্থাপন করেন, যেখানে বিশ্বের ১১টি রাজধানীর হত্যাকাণ্ডের হারের তুলনা করা হয়েছে। এতে ওয়াশিংটন সর্বোচ্চ এবং নতুন দিল্লি নবম স্থানে রয়েছে।লেভিট বলেন, শিকাগোতে টানা ১৩ বছর ধরে আমেরিকার যেকোনো শহরের চেয়ে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর জন্য তিনি অবৈধ বন্দুক এবং কম গ্রেপ্তারের হারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “এই বছর রিপোর্ট করা প্রায় ১,৪৮,০০০ অপরাধের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশে গ্রেপ্তার হয়েছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।”
সম্প্রতি মিনিয়াপলিস স্কুল শুটিং প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “যেকোনো যুক্তিবাদী ব্যক্তি জানেন যে এটি বন্দুকের ব্যাপার নয়। আমরা জানি এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা।”তিনি ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেডারেল সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে তিনি তার প্রশাসনের "আমেরিকার শহরগুলোকে আবার নিরাপদ করার" অগ্রাধিকারকে অবহেলা করছেন।
পরে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে প্রিটজকারের ওপর আক্রমণ করে লেখেন, “গভর্নর প্রিটজকারের শিকাগোতে এই সপ্তাহান্তে ৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু তিনি আমার কাছে সাহায্য চাইতে চান না। এটা কি সম্ভব? মানুষ অপরাধ দমন করার জন্য মরিয়া, যা ডেমোক্র্যাটরা করতে সক্ষম নয়। অপেক্ষা করুন!”
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ