চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আজ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন জোবরা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত দের শাতধিক মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চবি মেডিক্যাল সেন্টারে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফারহানা বলেন, ‘আজ সকাল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়ে চবি মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কমপক্ষে ২৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় হাটহাজারী ফতেহপুর ও বিশ্ববিদ্যালয় ২ নম্বর গেট এলাকায় আগামীকাল রাত পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ১৪৪ ধারা জারির পর বিকেল থেকে অভিযান শুরু করে আর্মি, র্যাব, পুলিশ। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে যৌথ বাহিনী শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে কাজ করছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী। সিইউজে সদস্য ও দ্য ডেইলি স্টার এর স্টাফ রিপোর্টার সিফায়েত উল্লাহ সিফায়েত, আর টিভির ক্যামেরাপার্সন ইমু খান, দেশ টিভির ক্যামেরা পার্সন হাসান উল্লাহ, রিপোর্টার মোহাম্মদ নাজিম সহ বেশ ক'জন গণমাধ্যমকর্মী।
২য় দফায় সংঘর্ষ :
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সকাল থেকেই সেনাবাহিনী দেখতে পেয়েছি। তবে এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তারা চলে গেছেন। এরপরই দুপুর ১২টার দিকে এই সংঘর্ষের শুরু হয়। তারা সুষ্ঠু সমাধান চান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা সফল হননি।
এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসার দারোয়ান কর্তৃক মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা রাতভর চলতে থাকে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
গুরুতর অবস্থায় প্রায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির দুই শিক্ষক আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সকল পরীক্ষা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘চবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই পরীক্ষার্থী ছিলেন। সবার কথা বিবেচনা রেখেই আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
এদিকে রোববার (৩১ আগষ্ট) দুপুর থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। সকাল থেকেই মুখোমুখি অবস্থানের পর আজ রোববার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট–সংলগ্ন জোবরা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাঝোতা করতে গেলে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইপক্ষ। দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন