ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে অপহরণ করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সোমবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড় জেলার দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পঞ্চগড়ের পোড়ামানিকপীর গ্রামের অনজুল হকের ছেলে মো. জুয়েল (২৮) এবং তার মা গোলাপি বেগম।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মোছা. হাসিনা বেগম গত ১১ মে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি আক্তার আখি নামের ওই কিশোরী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত ৮ মে সকাল ৯টার দিকে সে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্র থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তার গতিরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১ নম্বর আসামি জুয়েল তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। এ সময় বাকি তিনজন—সুলতানা বেগম, অনজুল হক ও গোলাপি বেগম—অটোরিকশায় পেছনে আসছেন বলে আশ্বস্ত করেন। সরল বিশ্বাসে আখি মোটরসাইকেলে উঠে পড়ে।
কিন্তু জুয়েল তাকে বাড়ির দিকে না নিয়ে দ্রুতগতিতে পঞ্চগড়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। পথে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জুয়েল কর্ণপাত করেনি। একপর্যায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানাধীন ১১ মাইল এলাকায় পৌঁছে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে আখিকে রাস্তায় ফেলে দেয়। চলন্ত ট্রাকের সামনে পড়ে গিয়ে তার মাথা, মুখ, হাত-পা ও কোমরে মারাত্মক আঘাত লাগে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সে ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর আত্মীয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। পরিবার রাজি না হওয়ায় তারা এ অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
.
রিপোর্টাস২৪/এস