রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক:ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি এমনটিই দাবী করছেন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মেহর নিউজের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
জানজান প্রদেশে আবান ১৩ (জাতীয় ‘গ্লোবাল অ্যারোগ্যান্সবিরোধী সংগ্রাম দিবস’ ও সাবেক মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী) উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে কলঙ্কিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, তারা আরোপিত যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেই ব্যর্থতার পথেই হেঁটেছে।‘ইসরাইলি শাসন এখন শক্তিশালী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো অবস্থায় নেই।
“যদি ইসরাইল আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তবে ইরানের সেনাবাহিনী তাদের কঠোরভাবে পরাজিত করবে।’ সাইয়ারি সতর্ক করেন।
ইরান ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেনি (রহ.)–এর প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলি শাসনের প্রতি সমর্থনের সমালোচনা করে সাইয়ারি বলেন, “গত দুই বছরে মার্কিন সমর্থনে জায়নিস্ট শত্রু অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে শহীদ করেছে।’‘গ্লোবাল অ্যারোগ্যান্স’ বা বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তি (যার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র) এবং তাদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে অঘোষিত ও উসকানিমূলক হামলা চালায়, যা ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে রূপ নেয়। এতে ইরানের অন্তত ১,০৬৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকও ছিলেন।
১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্রীড়নককে ইরানের বিরুদ্ধে পাঠায়, কিন্তু জায়নিস্ট শত্রু একা কিছুই করতে পারেনি। শেষে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধে নেমেছিল—তবু পরাজয় বরণ করতে হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ইরান পাল্টা জবাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা ও কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি—যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি—লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
ইরান এই হামলার মাধ্যমে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
রিপোর্টার্স ২৪/ জয়