রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে নেমে এসেছে মৌসুমের প্রথম ঠান্ডার আমেজ। সকাল-সন্ধ্যায় বইছে হিমেল হাওয়া, মাঠে-ঘাটে জমছে শিশিরের কণা পুরো জেলাজুড়ে শীতের আগমন যেন চোখে দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর আগের দিন (মঙ্গলবার) একই স্থানে তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অর্থাৎ মাত্র একদিনে প্রায় দুই ডিগ্রি কমে গেছে পারদ।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল থেকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ। ফলে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো অঞ্চল। জেলার গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাঘাটও সকালজুড়ে ছিল দৃষ্টিসীমাহীন কুয়াশায় মোড়া। দৃশ্যমানতা নেমে আসে কয়েক হাত দূরেযানবাহনগুলোকে বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়।
টুনিরহাট এলাকার অটোচালক ফারুক হোসেন বলেন, সকালে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালালেও রাস্তা দেখা যায় না। এখন সকালে যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।
আর মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম জানান, জরুরি কাজে বের হয়েছি, কিন্তু এমন ঠান্ডায় হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পুরো অঞ্চল থাকবে কুয়াশার চাদরে ঢাকা। কোথাও কোথাও দিনের বেলাতেও দেখা যেতে পারে কুয়াশা। কারণ বাতাসে রয়েছে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প, যা সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। ফলে রাতে দ্রুত ঠান্ডা নেমে আসছে, আর ভোরে তৈরি হচ্ছে ঘন কুয়াশা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আবহাওয়া সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই পরিবর্তন আরও তীব্র হচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। নভেম্বরের শেষ দিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। ডিসেম্বরজুড়ে পঞ্চগড় ও আশপাশের এলাকায় একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম