| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জনবল সংকটে ধুঁকছে শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিস

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৬, ২০২৬ ইং | ০১:২৪:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৩৫৩৫ বার পঠিত
জনবল সংকটে ধুঁকছে শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিস

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদনকারী এলাকা। প্রতিবছর হাজার হাজার টন মাছ উৎপাদিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকটে ধুঁকছে উপজেলা মৎস্য অফিস। অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে চারটি বছরের পর বছর শূন্য থাকায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে দপ্তরের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মৎস্যচাষি ও জেলেরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই উপজেলায় সরকারি খাস পুকুর রয়েছে ৩২টি, যার আয়তন ৪ দশমিক ৪০ হেক্টর। এছাড়া বেসরকারি পুকুর রয়েছে ৭ হাজার ১৭৩টি, যার মোট আয়তন ৩ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬০ হেক্টর। এসব জলাশয় থেকে বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।

রুই, কাতলা, মৃগেল, বিভিন্ন প্রজাতির কার্প, তেলাপিয়া, গুলশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর ও পাঙাশসহ নানা প্রজাতির মাছ উৎপাদনে শার্শার সুনাম রয়েছে। কিন্তু বিপুল এই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অফিস সূত্র জানায়, অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুইজন। মৎস্য সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পদটি সৃষ্টির পর থেকেই শূন্য। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদ প্রায় ১১ বছর ধরে এবং ক্ষেত্র সহকারী পদ চার বছর ধরে শূন্য রয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে খামার পরিদর্শন, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, পরিসংখ্যান সংগ্রহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ভ্রাম্যমাণ অভিযানসহ দাপ্তরিক নানা দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে সেবা প্রদানও সম্ভব হচ্ছে না।

তবে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের দাবি, সীমিত জনবল নিয়েও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আন্তরিকতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে সেবার মান আরও বাড়বে।

শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্টরা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মাঠপর্যায়ের সেবা সম্প্রসারিত হবে, মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে আরও কার্যকরভাবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪