| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এপস্টিন ফাইল ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ইং | ০৩:২৫:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৯৯৪০২৩ বার পঠিত
এপস্টিন ফাইল ইস্যুতে  রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেফ্রি এপস্টিন–সংশ্লিষ্ট ফাইল প্রকাশের ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দল থেকেই অভূতপূর্ব পরাজয়ের মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান–নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে মাত্র একটি ভোট ছাড়া বিলটি পাস হওয়ায় ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গত সপ্তাহান্তেও যেখানে বিলটি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল, সেখানে মঙ্গলবার রাতেই হাউস ও সিনেট দু’কক্ষেই রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়ে যায়। এপস্টিন–নির্যাতনের শিকার নারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের এটাই সবচেয়ে বড় জয়।

ট্রাম্প–বন্ডি চাপে, প্রশ্ন—তিনি কী লুকোচ্ছেন

এপস্টিন ফাইল প্রকাশে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ বললেও পরে অবস্থান পাল্টান ট্রাম্প ও অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি। ফলে কংগ্রেস চাপ বাড়িয়ে পুরো ফাইল প্রকাশে বাধ্যতামূলক আইনই পাস করে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—হোয়াইট হাউস কি ফাইল প্রকাশ করবে, নাকি আইনগত অজুহাতে সময়ক্ষেপণে যাবে?

বিচার বিভাগ প্রকাশ স্থগিত করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের হতাশ করতে পারে এবং ট্রাম্পকে আরও বড় রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে ফেলতে পারে।

ভুক্তভোগীদের সতর্কতা: ‘এটা শেষ নয়’

এপস্টিন–নির্যাতনের শিকার হ্যালি রবসন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ। সরকারকে বিশ্বাস করা কঠিন।”

ভুক্তভোগীদের এই চাপই এখন ট্রাম্পের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখনো অপরাধের প্রমাণ নেই, তবু সন্দেহ বাড়ছে

এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টিন–সম্পর্কিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু কংগ্রেসে প্রকাশিত এপস্টিনের কয়েকটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম উঠে আসায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের হাতে থাকা ফাইলেও তাঁর উল্লেখ থাকতে পারে বলে ধারণা।

রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি সতর্ক করেছেন—তথ্য গোপন করা হলে তিনি হাউসে দাঁড়িয়ে নামগুলো প্রকাশ করে দেবেন।

রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্পের প্রভাব কমছে ?


বিলটি পাসের আগে পর্যন্ত রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের নির্দেশেই চলেছে। কিন্তু এ ইস্যুতে তাঁর আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের “অমোঘ ক্ষমতার ভাবমূর্তি”-তে বড় আঘাত।


ট্রাম্পের জন্য কঠিন সময়


এপস্টিন ইস্যুর পাশাপাশি সম্প্রতি একের পর এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ট্রাম্প—

অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগে জনপ্রিয়তা হ্রাস

জেমস কোমির বিরুদ্ধে মামলায় আদালতের বিরূপ মন্তব্য

সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে সংশয়

টেক্সাসের বিতর্কিত নতুন কংগ্রেশনাল মানচিত্র আদালতে আটকে যাওয়া

সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতর ও বাইরে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।

ভুক্তভোগীদের প্রতীকী শক্তি এখন রাজনৈতিক ঢেউ

এপস্টিনের মৃত্যুর পরও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়া ভুক্তভোগীরা এখন শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। মঙ্গলবার হাউসের ভোটে অংশ নিয়ে তারা বলেন—এটি “ক্ষমতাবান অপরাধীদের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার প্রতিশ্রুতি।”

যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, তবে এপস্টিন ফাইল ইস্যুটি এখন তাঁর প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: সিএনএন


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪