রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট ও সমঝোতাকৃত চুক্তি ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)কে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেন, হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর “স্বতন্ত্র বাস্তবতা” রয়েছে। তাই তেহরান, আইএইএ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব স্থাপনায় পরিদর্শন সম্ভব নয়। কী ধরনের চুক্তি প্রয়োজন—তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
গত জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বোমা হামলা চালায়, যা ১২ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। অল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও এতে যুক্ত হয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানে। এরপর তেহরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে এবং বোমাবিদ্ধ স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
ইরানের অভিযোগ, আইএইএ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং ইসরায়েলের হামলার নিন্দা না জানিয়ে সংস্থাটি “পক্ষপাতমূলক নীরবতা” বজায় রেখেছে। আরাঘচি বলেন, “তারা এসে হামলা করে চলে গেল, আর এখন আইএইএ এসে তাদের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করবে—এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তেহরান ও আইএইএ নতুন সহযোগিতা কাঠামোয় একমত হলেও, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি পুনরায় জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করলে ইরান সেই কাঠামোকে অকার্যকর ঘোষণা করে।
যুদ্ধের পর ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের পরমাণু আলোচনা থমকে আছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানও বিপরীতমুখী। তেহরান বলছে, সমৃদ্ধি তাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। তবে আলোচনায় ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেও ইরানের শর্ত, আলোচনা হতে হবে “সমতার ভিত্তিতে”।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি