রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: হাওয়াইয়ে তিন দিনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামরিক বাহিনী। দুই পরাশক্তির মধ্যে ধীরে ধীরে সামরিক যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ কর্মপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে শনিবার (২২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে চীনা নৌবাহিনী। খবর রয়টার্স।
চীনা নৌবাহিনীর সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়, ১৮–২০ নভেম্বর পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল সামরিক সামুদ্রিক পরামর্শমূলক চুক্তি—এমএমসিএ–এর অধীনে দ্বিবার্ষিক কর্মপর্যায় বৈঠক। এর আগের বৈঠকটি হয়েছিল এ বছরের এপ্রিল মাসে, যা ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর পর প্রথম সামরিক কর্মপর্যায় আলোচনা।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ বর্তমান সমুদ্র ও আকাশসীমার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ আলোচনা করেছে। বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ‘ফ্রিডম–অব–নেভিগেশন’ অভিযানের সমালোচনা করে। এসব অভিযান তাইওয়ান প্রণালি ও দক্ষিণ চীন সাগরের সেই সব এলাকায় পরিচালিত হয়, যেগুলোকে চীন নিজের সার্বভৌম জলসীমা বলে দাবি করে। চীন এসব অভিযানে ‘উসকানি’ ও ‘উল্লঙ্ঘন’ দেখছে বলে জানায়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক নৌ ও আকাশসীমায় সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করে দুই পক্ষ। লক্ষ্য ছিল দুই দেশের ফ্রন্টলাইন বাহিনীর মধ্যে আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ানকে ঘিরে বেইজিংয়ের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন তাইওয়ানকে ঘিরে বিমান, নৌ ও কোস্টগার্ড মোতায়েন বাড়িয়েছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ দাবি করলেও তাইওয়ান সরকার সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) চীনের সামরিক আধুনিকায়ন, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড ও পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধির বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও নিয়মিত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি