রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল । রবিবারের এ হামলায় নয়তলা একটি আবাসিক ভবনের অংশ বিশেষ ধসে পড়ে এবং আশপাশে ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত এ হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে এবং গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা এনএনএ (NNA)। সংস্থাটি জানায়, হারেত হরাইক এলাকায় ভবনটিতে তিনটি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়, যা আশপাশের গাড়ি ও স্থাপনায়ও ক্ষতি করে।
হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। হামলার স্থানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে হিজবুল্লাহ নেতা মাহমুদ কোমাতি বলেন, এটি স্পষ্টভাবেই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা। ফলাফল এখনো পরিষ্কার নয়।” তিনি আরও বলেন, এ হামলা “একটি নতুন লালরেখা অতিক্রম করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তাঁর নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে,যা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান এক বছরের যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের ভেতরে সর্বশেষ আঘাত।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিবেদকদের বর্ণনায় জানা যায়, ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন ছিল।
এর আগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আইতা আল-শাবে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩১ জন নিহত এবং ৯৪৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল (UNIFIL) জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের ১০ হাজারের বেশি আকাশ ও স্থল লঙ্ঘন রেকর্ড করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করে এবং পাঁচটি সীমান্ত আউটপোস্টে এখনো অবস্থান করছে। -টিআরটি ওয়ার্ল্ড
রিপোর্টার্স২৪/এসসি