রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এই কর্মসূচি ডাক দিয়েছে। গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে পাঁচজন আহ্বায়কের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আহ্বায়করা হলেন, মো. আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি, মু. মাহবুবুর রহমান, মো. আনোয়ার উল্যা।
পরিষদের আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, আজ থেকে আমাদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না করা পর্যন্ত কেউ কাজে যোগ দেবেন না। এটি প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদার লড়াই। আমরা চাই, সরকার গত ১২ নভেম্বর দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করুক।
শিক্ষকরা তাদের দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন চালাচ্ছেন। সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে, পরবর্তীতে দশম গ্রেডের দাবিও পূরণ হবে। এছাড়া পদোন্নতি ও স্কেল সংক্রান্ত দুটি দাবিও পূরণ করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ তিনদিনের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল। এই কর্মসূচির মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।
অপরদিকে, আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। শিক্ষকদের কর্মবিরতি পরীক্ষার অগ্রযাত্রা ও সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রায় ১ কোটি শিশুশিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষকসংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। প্রধান শিক্ষকদের সম্প্রতি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড পেয়েছেন, যা নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম