রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শীতের প্রথম ঝাপটাতেই উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা দিয়েছে শিশু রোগের ভয়াবহ প্রকোপ। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ ঋতুকালীন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক শিশু ভর্তি হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতালে। ৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মেঝেতে, বারান্দায়, এমনকি করিডোরেও শুইয়ে রাখা হচ্ছে রোগাক্রান্ত শিশুদের।
কিন্তু রোগীর এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বড় সংকট ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী স্যালাইন নিয়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে প্রায় কোনো ওষুধই দেওয়া হচ্ছে না। টাকা খরচ করে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক, এমনকি সিরিঞ্জ-ক্যানোলা। অনেকে বলছেন, নার্সরা সঠিকভাবে শিরায় ক্যানোলা বসাতে পারছেন না। ফলে বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধ আর অব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল চত্বরে টিকে থাকা দায় হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় শুধু শিশু ওয়ার্ডেই চিকিৎসা নিয়েছে ১৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
রোগীর স্বজন শিউলি বেগম বলেন, ‘তিন দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে মেঝেতে শুইয়ে আছি। ওষুধ-স্যালাইন কিছুই দেয়নি। বাইরে থেকে ৮০০ টাকার স্যালাইন কিনে এনেছি। এত কষ্টে এনে যদি এমন হয়, তাহলে হাসপাতালে আনব কেন?’
আরেক অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘নার্সরা তিন-চারবার চেষ্টা করেও ক্যানুলা বসাতে পারেননি। শেষে বাইরে থেকে একজনকে ৫০০ টাকা দিয়ে এনে কাজ করিয়েছি। এটা কোনো সরকারি হাসপাতালের চিত্র?’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওষুধ সরবরাহে ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, ‘রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এই ট্রানজিশন পিরিয়ডে (গরম থেকে ঠান্ডায় রূপান্তর) শিশুদের রোগ বাড়ে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করছি। ক্যানুলা না পারার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাজ্জাদ হায়দার শাহীন বলেন, ‘এই সময়টা শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড় পরাতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানতে হবে এবং ওরাল হাইড্রেশন স্যালাইন (ওআরএস) প্রয়োজনে খাওয়াতে হবে।’
রোগীর এই চাপ আর সেবার এই অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, জেলা হাসপাতালই যদি এমন অবস্থায় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? দ্রুত ওষুধ সরবরাহ ও সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন