রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে শীত যেন আগেভাগেই জেঁকে বসেছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে পুরো এলাকা, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল বাতাস। এতে চরের খেটে খাওয়া মানুষদের দৈনন্দিন জীবন এখন দুঃসহ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য নিম্নতম তাপমাত্রা।
শীতের তীব্রতা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সকালবেলা রাস্তাঘাটে দেখা যায় অস্বাভাবিক নীরবতা; শীত, কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে যাতায়াত আর দিনমজুরদের কাজ করা হয়ে উঠেছে কষ্টসাধ্য।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াগাড়িচালক মো. জলিল মিয়া (৬০) জানান, ঠান্ডা এমনভাবে বাড়ছে যে হাত-পা জমে আসে। কুয়াশার কারণে রাস্তা দেখা যায় না, গাড়ি চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে।
পাঁচগাছ ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক আব্দুল কাদের (৫৫) বলেন, এখন আমন কাটার সময়। কিন্তু সকালে ঠান্ডার জন্য ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন। তারপরও না বের হলে তো সংসার চলবে না। তাই কষ্ট করে বের হতে হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, শীত মোকাবিলায় জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ লাখ করে মোট ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কম্বল কেনার কাজ চলছে, তালিকা প্রস্তুত হলে দ্রুতই শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মঙ্গলবার জেলার তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে, এবং পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম