রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ ও দেশকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী’ ব্যানারে ডাকসু ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নরেন্দ্র মোদীবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল ‘কসাই মোদীর গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘কসাই মোদীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ, জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দেবে জনগণ’, ‘আজকের এই দিনে, আবরারকে মনে পড়ে’ ইত্যাদি।
কর্মসূচির অন্যতম সংগঠক রিয়াদ জুবাহ বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ভারতের সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবাদের কারণেই তৎকালীন সরকার জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। গত ১৭ বছরে দেশে যে অপশাসন চলেছে, তাতে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে। তাই ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজকের এই প্রতিবাদ।
কুশপুতুল দাহের পাশাপাশি মধুর ক্যান্টিনসংলগ্ন এলাকায় পদদলিত করার উদ্দেশ্যে নরেন্দ্র মোদীর একটি স্টিকারও টানানো হয়।
গোলাম আযমের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ
এর আগে দুপুর ১টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী।
এ সময় তারা ‘রাজাকারের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘রাজাকারের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘পাকিস্তানের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা স্লোগান দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিশাম আনোয়ার বলেন, আমরা রাজাকারদের ঘৃণা করি। কিছু অপশক্তি তাদের নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
তিনি বলেন, গোলাম আযম ও তার সহযোগীরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তাদের উত্তরসূরীরা আজও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি একটি সংগঠন তাদের ‘সূর্যসন্তান’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবসে রাজাকারদের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই আজ আমরা এই কর্মসূচি পালন করেছি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি