রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলার ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন মোট ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন এবং সার্বিক কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ, গুজব ও জালিয়াতি প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৬ জানুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার পূর্ণমান ৯০ এবং সময় বরাদ্দ থাকবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
পরীক্ষায় নেতিবাচক নম্বর পদ্ধতি কার্যকর থাকবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। জালিয়াতি রোধে চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে, যা চারটি ভিন্ন রঙের কাগজে ছাপানো হবে। সেটভেদে প্রশ্ন ও উত্তরক্রম ভিন্ন হলেও প্রশ্নের মান একই থাকবে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মনিটরিং কর্মকর্তারা পরীক্ষার আগের দিন সংশ্লিষ্ট জেলায় উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন।
প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের ট্রাংক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করে ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করবেন। ট্রাংকগুলোতে দুটি সিলগালা তালা, শিশার সিল এবং আড়াআড়িভাবে দুটি বিশেষ বেল্ট দিয়ে লক করা থাকবে।
এ ছাড়া ওএমআর শিট, হাজিরা শিট ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি পৃথক ট্রাংকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে রাখা হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। তারা পুলিশ ফোর্সসহ ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছাবেন।
পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের মূল ফটকে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে এবং ব্যানারের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হবে।
পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো কক্ষ পরিদর্শক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিটরিং কর্মকর্তারাও পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজন ব্যতীত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ২ জানুয়ারির নির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয় বলে আগে জানিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।বাসস