| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হিমশীতল কুড়িগ্রাম: তীব্র শীতে থমকে গেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১০, ২০২৬ ইং | ০৯:৪৮:০৭:পূর্বাহ্ন  |  30388 বার পঠিত
হিমশীতল কুড়িগ্রাম: তীব্র শীতে থমকে গেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কুড়িগ্রাম জেলায় গত কয়েক দিন ধরে চলমান তীব্র শীত ও হিমশীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ কাজ নেই, আয় নেই, অথচ ঠান্ডার তীব্রতা দিন দিন বাড়ছেই।

রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হিমেল বাতাসে কাঁপছে মানুষ। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে শীতের তীব্রতা কিছুতেই কমছে না।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শীতের কারণে কাজ হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, ঠান্ডার জন্য সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না। আয় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

একই অবস্থা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আছিয়া বেগমের। তিনি বলেন, ঠান্ডায় কাজ করা যায় না, বাচ্চাদের নিয়েও বাইরে বের হওয়া কঠিন। সংসার চালানো দায় হয়ে গেছে।

জীবিকার ওপর শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যেও। সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া জানান, বিল আর নদীতে নামতেই পারছি না। কয়েক দিন ধরে মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যখাতেও। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে। কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সব উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪