| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রোববার থেকে বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় চলবে বেনাপোল–খুলনা–মোংলা ট্রেন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১০, ২০২৬ ইং | ২২:১২:১৭:অপরাহ্ন  |  28873 বার পঠিত
রোববার থেকে বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় চলবে বেনাপোল–খুলনা–মোংলা ট্রেন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

বেনাপোল প্রতিনিধি: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক বেনাপোল–খুলনা–মোংলা (ভায়া যশোর) রুটে চলাচলকারী বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এই ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’।

তবে লাভজনক এই কমিউটার ট্রেন বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীসাধারণ। তারা সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই ট্রেনটি পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনটি লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার স্বার্থে বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকিট চেকার সংকট থাকলেও চেকার নিয়োগ ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ালে সরকারিভাবেই আরও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে যাত্রীসেবার মান কমে যাবে, ভোগান্তি বাড়বে এবং অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে এমন আশঙ্কা তাদের।

স্থানীয়দের মতে, অতীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাকালে বগি কমিয়ে যাত্রীদের গাদাগাদি করে বসানো হতো। এতে যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তারা সরকারি ট্রেনে যাতায়াতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লাভজনক এই রুটটি বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ মে দরপত্র খোলা হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে তিন বছরের জন্য ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-কে ট্রেনটির টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

যাত্রীদের দাবি, কোনো আন্দোলন বা প্রতিক্রিয়া এড়াতেই পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়। ২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এরপর বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ ট্রেন পরিচালনার দায়িত্ব পায়। কিন্তু বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নেমে যাওয়াসহ চোরাচালান ও দখলদারিত্ব বাড়ায় ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয় ট্রেনটি।

বর্তমানে এই রুটে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত যাতায়াতে এই ট্রেন ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়। বর্তমানে গড়ে মাসে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। যাত্রীদের মতে, এই লাভজনক অবস্থার কারণেই ব্যবসায়িক সুযোগ সন্ধানীদের নজর পড়েছে ট্রেনটির ওপর।

ট্রেন যাত্রী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,খুলনা থেকে বাসে বেনাপোল আসতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা, ভাড়া ২৫০ টাকা। অথচ কমিউটার ট্রেনে আড়াই ঘণ্টায় মাত্র ৪৫-৫০ টাকায় যাতায়াত করা যায়। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে। এখন সরকারি কোষাগারেও আগের চেয়ে বেশি আয় হচ্ছে।

আরেক যাত্রী শ্যামল কুমার বলেন,বেসরকারি খাতে গেলে আবারও চোরাচালানিদের আধিপত্য বাড়বে এবং যাত্রীরা ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়বেন। তাই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা প্রয়োজন।

টেন্ডারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন-এর মালিক হুমায়ন আহমেদ বলেন,আমরা বৈধ প্রক্রিয়ায় কাজ পেয়েছি। বাজেট ও অন্যান্য কারণে আগে দায়িত্ব নিতে পারিনি। রোববার থেকে আমাদের ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটি চলবে।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান,রোববার থেকে বেতনা কমিউটার ট্রেন বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় চলবে। ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। আগে প্রতি মঙ্গলবার ট্রেনটি বন্ধ থাকলেও এখন সপ্তাহের সাত দিনই চলবে।

এ বিষয়ে পাকশীতে কর্মরত বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন,নীতিমালা অনুসরণ করেই ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শেষ ছয় মাসের আয়ের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে চায়, তাহলে তাদের লিজ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে যে কোনো সময় এই লিজ বাতিল করার ক্ষমতা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪