সিনিয়র রিপোর্টার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মতো শিল্পীদের জীবদ্দশায় যথাযথ মর্যাদা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে, যা একটি বড় রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ফরিদা পারভীন শুধু লালনের গান পরিবেশন করেননি, বরং নিজ সাধনা ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে লালন সংগীতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদা পারভীনের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, সত্তরের দশকে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ও ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর মতো গান পরিবেশনের মাধ্যমে ফরিদা পারভীন লালন সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। লালনের গান শাস্ত্রীয় ও রাগভিত্তিক সংগীতচর্চার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত—যা ফরিদা পারভীন তাঁর গায়কী ও দর্শনচর্চার মাধ্যমে অনন্য রূপ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, লালন সংগীত বিকৃত হওয়ার বিষয়ে ফরিদা পারভীন আজীবন দুঃখ প্রকাশ করতেন এবং লালনের ভাব ও দর্শন ধারণের ওপর গুরুত্ব দিতেন। শুধু বাহ্যিক অনুকরণে নয়, অন্তরে লালনকে ধারণ করলেই প্রকৃত লালনচর্চা সম্ভব—এমন বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি।
উপদেষ্টা জীবিত শিল্পীদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে রাখার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিল্পী অবহেলার শিকার না হন।
অনুষ্ঠানে অচিন পাখি সংগীত একাডেমির শিশু শিল্পীদের পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকেই নতুন প্রজন্মের ফরিদা পারভীন উঠে আসবে।
অচিন পাখি সংগীত একাডেমির অধ্যক্ষ গাজী আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন, মেজর (অব.) শিব্বির আহমাদ খান এবং ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি