রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থান আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করতে ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। আগমনী ভিসাসহ (অন অ্যারাইভাল ভিসা) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৫ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য ভিসা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা-২০০৬ এবং পরবর্তীতে জারি করা সব প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সুনির্দিষ্ট ভিসা প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কঠোরভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিনা ভিসায় বাংলাদেশে আগত বিদেশিদের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী আগমনী ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের সময় আগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, অবস্থানের ঠিকানা (হোটেল বা আবাসস্থল), ফিরতি টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র গভীরভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো ধরনের অসংগতি, অনিয়ম বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি সামরিক বাহিনী কিংবা নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কোনো ভিসা প্রদান করা যাবে না।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ পর্যবেক্ষণে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য তাদের ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ লেখা সিলসহ আগমনী ভিসা প্রদান করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ থাকলে পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি মওকুফের সুযোগও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান, আগমন ও প্রস্থানের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও আগমন-প্রস্থানের বিস্তারিত তথ্য এক্সেল ফরমেটে প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ) বরাবর ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল আরও নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় আনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম