রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন হবে কি না সে বিষয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সংক্রান্ত আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির বিরোধিতা করেন এবং দাবি করেন, উল্লিখিত কোনো ঘটনাতেই জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তারা।
তবে আসামিপক্ষের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি আদালতে জানান, মামলার তদন্তকালে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি রয়েছে, যা অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়। সে সময় প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, ঘটনাক্রম এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরে। এসব উপাত্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন সকালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
আজকের আদেশের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে এই আলোচিত মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কি না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম