| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হিমালয়ের ছোঁয়ায় পঞ্চগড়ে শীতের দাপট, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির ঘরে

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ১০:১১:০২:পূর্বাহ্ন  |  ৭০৬৫৯২ বার পঠিত
হিমালয়ের ছোঁয়ায় পঞ্চগড়ে শীতের দাপট, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির ঘরে

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হিমালয়ের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের প্রকোপ আবারও চরম আকার ধারণ করেছে। উত্তরের হিমশীতল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় পুরো জনপদ যেন বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে। তাপমাত্রার হিসাবে তেঁতুলিয়ার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যদিও সকাল গড়ালে সূর্যের দেখা মিলছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন বুধবার সকাল ৯টায় এখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরাবরই বেশি অনুভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পুরোটা সময়ই উত্তরের হিমেল বাতাস বইতে থাকায় শীতের কামড় সহজে কমে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার তীব্রতাও দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

তবে এমন প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে খুব ভোরে কাজে বের হতে দেখা যাচ্ছে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষের। নদীর বরফশীতল পানিতে নেমে পাথর তুলছেন শ্রমিকরা।

মহানন্দা ও ডাহুক নদীতে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ইরফান, আজগর ও মোতালেব জানান, নদীর পানি একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা। তবুও পেটের দায়ে পানিতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। পাথর তোলাই তাদের একমাত্র জীবিকা।

চা বাগানেও একই চিত্র। চা শ্রমিক সাইফুল ও জামালসহ কয়েকজন জানান, ভোরের হিমশীতল বাতাসে চা পাতা তুলতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই।

এদিকে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতেও গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। রাত ও সকালে ঘন কুয়াশা পড়ছে। গ্রামগঞ্জের মানুষ গরম কাপড়ে নিজেদের ঢেকে রাখছে। বুধবার থেকে শীতের প্রকোপ হঠাৎ করে আরও বেড়ে যায়। দিনের বেলাতেও ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং বিকেলের পর শীত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

তবে শীত বাড়লেও সরকারি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ প্রয়োজনের তুলনায় এখনো অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শীতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা এসব রোগ থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। কয়েক দিন ধরে এখানে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।। 


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪