রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট (মদ) পানে বিক্রেতাসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গত তিন দিনে এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় অ্যালকোহল পানের ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি রাতে নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম।
অন্যদিকে, বুধবার সকালে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্পিরিট বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন বন্দি হিসেবে কারাগারে আনা হয়। কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)।
এ ছাড়া একই ধরনের অপর একটি ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর হাজিরহাট থানাধীন বালারবাজার এলাকায় অ্যালকোহল পান করে গুরুতর অসুস্থ হন সদর কোতোয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। পরদিন দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওসি আজাদ রহমান বলেন, মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর আতঙ্কে অনেকে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক মদ পানে মৃত্যুর ঘটনায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও সহজেই জামিনে বের হয়ে আবার ব্যবসা শুরু করে। এমনকি কারাগারে থাকলেও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ থাকে না।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা রোধ করা সম্ভব। তারা মনে করেন, অবৈধ মদের ব্যবসা বন্ধ করা গেলে আসক্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে অসংখ্য মানুষ, নিরাপদ থাকবে পরিবার ও সমাজ।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি