স্টাফ রিপোর্টার: অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন এবং ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। কেন এই টাস্কফোর্সকে অবৈধ, বেআইনি, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে এই রুল দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দাখিলের জন্য দুই সপ্তাহের সময় নির্ধারণ করেছেন।
রুলে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক গত ২৪ জুলাই জারি করা এক স্মারকের মাধ্যমে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, সেখানে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে করে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ লঙ্ঘিত হয়েছে কি না এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবিনেট বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—সে বিষয়ে আদালত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
হাইকোর্ট রুলে আরও জানতে চেয়েছেন, উক্ত টাস্কফোর্সে ওষুধ খাতের সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত না করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে কেন টাস্কফোর্স গঠনের স্মারক এবং এর আওতায় গৃহীত সব কার্যক্রমকে আইনগত কার্যকারিতাবিহীন ঘোষণা করা হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া রুলে আদালত নির্দেশনা চেয়েছেন, কেন বিবাদীদের প্রতি আদেশ দেওয়া হবে না যে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও কেবিনেট বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে উক্ত টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করতে হবে। সে পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সব ধরনের চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব থাকা অত্যন্ত জরুরি। আদালতের এই রুলের ফলে টাস্কফোর্সের গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও আইনি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি