রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে গুরতর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবেশি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত উলফা ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার আসামের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খ এ খবর দিয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, সম্প্রতি উলফা ও অন্যান্য ছোট জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষনেতাদের বাংলাদেশে যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেশি দেশে তাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীতা আসামে সন্ত্রাসবাদ দমন ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শেখ হাসিনার সহযোগিতা ছাড়া আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হত না।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে যদি ভারতে প্রতি বৈরিতা বৃদ্ধি পায়, তবে জঙ্গি সংগঠনগুলো সেখানে ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় এই হুমকি অত্যন্ত গুরতর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আসামকে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আসাম সরকার অনুরোধ করবে যাতে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তার মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় পররাষ্ট্রনীতি হলেও মানবিক সংকট যখন আঞ্চলিক স্থীতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে, তখন রাজ্য সরকারেরও দায়িত্ব থাকে তা তুলে ধরার।
রিপোর্টার্স ২৪/এমবি