| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশে অশুল্ক বাধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইইউ: বাণিজ্য সচিব

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ ইং | ২৩:২৭:২৮:অপরাহ্ন  |  ১০৫৪৬৫৮ বার পঠিত
বাংলাদেশে অশুল্ক বাধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইইউ: বাণিজ্য সচিব
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বা অশুল্ক বাধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্য সচিব বলেন, গতকাল (রোববার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে, তাদের কনসার্ন (উদ্বেগ) নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইমপোর্ট ট্যারিফ বা আমদানি শুল্ক বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিদেশি অংশীদাররা এটি মেনে নেয়, কারণ এটি বৈধ। কিন্তু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার তারা মানতে পারেন না।

বাণিজ্য সচিব জানান, ইইউ বাংলাদেশের নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বিষয়ে একটি বিশাল তালিকা (ফর্দ) হাতে দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি কাস্টমস প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কিত। তিনি বলেন, তারা এখানে প্রক্রিয়ার সহজীকরণ চায়।

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার দ্রুত বাণিজ্য নীতি সংস্কারের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ট্রেড পলিসির যে সংস্কার হওয়া দরকার ছিল তা হয়নি। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে যদি না হয়, তাহলে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে যাবে।

ড. জাইদি সাত্তার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ আমদানি শুল্ক আদায় করে, যা জিডিপির ২.৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা জরুরি।

তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কেবল রাজস্ব আদায়ের দিকে নজর না দিয়ে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ বা বাণিজ্য সহজীকরণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাণিজ্যের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান পরিষেবার মান নিয়ে উদ্বেগ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, একই দেশ থেকে আমদানিকৃত একই পণ্য একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তা ভিন্ন মূল্যে অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করছেন; এমন অভিযোগ প্রায়ই আসে। এই মেকানিজমে স্বচ্ছতা আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্লায়েন্টরা অত্যন্ত বিরক্ত। তারা বলেন যে, আমরা যারা কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার, তাদের আপনারা প্রতিনিয়ত আরও বেশি ট্যাক্স দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করেন এবং যারা ব্যবসা করছেন, নানাভাবে ব্যবসায় লাভ না হলেও ট্যাক্স দিতে হয়। নানা কারণে তারা অখুশি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাস্টমস পলিসি উইংয়ের সদস্য মুবিনুল কবির। তিনি বলেন, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) এবং প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং পদ্ধতিগুলো এখনো দেশে জনপ্রিয় হয়নি। এইও সুবিধার শর্তগুলো শিথিল করার চিন্তাভাবনা চলছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, এনবিআর সদস্য আল আমিন প্রামাণিক প্রমুখ।

এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ দেশের ৯টি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ দেয়। ফলে এসব কোম্পানি কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে।

সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড, এশিয়া পেইন্টস (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বিআরবি ক্যাবলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফুটস্টেপস বাংলাদেশ লিমিটেড, ওমেরা সিলিন্ডার লিমিটেড, জিহান ফুটওয়্যার, সুনিভার্স ফুটওয়্যার, কাটিং এজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এমবিএম গার্মেন্টস লিমিটেড।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪