এ পরিস্থিতিতে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন মৃধা জসীমসহ নির্বাহী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, “চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত রুঢ় ও অশালীন আচরণ করেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।”
জানা গেছে, কোর্ট বর্জনের ঘোষণার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতের কর্মপরিবেশের মান রক্ষার বিষয় নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক এবং দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ সতর্ক করে বলেছেন, যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা মনে করেন, আদালত ন্যায়ের শেষ আশ্রয়স্থল—এখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন