শিমুল চৌধুরী ধ্রুব:
জামায়াতের নেতা শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বেশ্যা’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে মানুষের ক্ষোভ হওয়াই স্বাভাবিক। এই ক্ষোভ ন্যায্য। কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না- জামায়াতের দৃষ্টিতে কি আসলে কোনো নারীই “সম্মানিত” হতে পারেন, তাদের দৃষ্টিতে কি সকল নারীই ‘বেশ্যা’ নন? যদি তিনি জামায়াত বা শিবিরের রাজনীতি না করেন?
বাস্তবতা হলো, জামায়াতের চোখে অধিকাংশ নারীই চরিত্রহীন। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, ডাক্তার, আইনজীবী, গার্মেন্টস শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক- নিজের পায়ে দাঁড়ানো প্রায় সব নারীই তাদের সংকীর্ণ মানসিক কাঠামোয় ‘অপরাধী’। সেই হিসেবে এই দেশে ৯৯.৯ শতাংশ নারীই জামায়াতের মূল্যবোধে অগ্রহণযোগ্য, অশুচি, অবমাননার যোগ্য।
এই মানসিকতা নতুন কিছু নয়। ঠিক একশো তিন বছর আগে, ১৯২৩ সালে, মিশরের নারীবাদী হুদা শারাওই কায়রোর ট্রেন স্টেশনে প্রকাশ্যে নিজের হিজাব ও নিকাব খুলে আকাশে ছুড়ে ফেলেছিলেন। তিনি শুধু কাপড় খোলেননি, তিনি ছুড়ে ফেলেছিলেন পুরুষতান্ত্রিক শাসনের ভয়, লজ্জা আর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। নারী-পুরুষ সবাইকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন এই মানসিক আবর্জনা ঝেড়ে ফেলতে।
বাংলাদেশে সেই আবর্জনার সবচেয়ে দুর্গন্ধময় রূপের নাম জামায়াতে ইসলামী। এটাকে বিশ্লেষণ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলার চেয়ে, সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আক্ষেপ নয়, দরকার স্পষ্ট অবস্থান। এই দুর্গন্ধ আপনি কিভাবে সরাবেন, সেটার দায়িত্বও সম্পূর্ণ আপনারই। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
লেখক: সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকর্মী