চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্টুডেন্টস ফর সার্বভৌমত্ব।
আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ের সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত বিদেশি কোম্পানির হাতে কনসেশন চুক্তিতে টার্মিনাল লিজ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমাতে স্বৈরাচারী কায়দায় শ্রমিক নেতাদের বদলি ও নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার একটি এবং অন্তর্বর্তী সরকার দুটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে বাংলাদেশকে সোমালিয়া, সোমালিল্যান্ড, সুদান ও ইয়েমেনের মতো সংকটময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের অতীত কর্মকাণ্ড এ আশঙ্কাকেই জোরালো করে।
স্টুডেন্টস ফর সার্বভৌমত্বের নেতারা বলেন—
১. অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল ‘টার্মিনাল অপারেটর’ হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
২. বর্তমানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দর প্রতি কনটেইনারে (TEU) গড়ে ১৬১–১৬৭ মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে। বিদেশি কনসেশন চুক্তিতে এই রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
৩. উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া ও দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিডের সুযোগ না দিয়ে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা অস্বচ্ছতা, কমিশন বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রশ্ন তুলছে।
৪. ‘সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বন্দর বিদেশিরা চালায়’—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে সিঙ্গাপুরের কোনো কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত নয় এবং ভিয়েতনামেও কোনো টার্মিনাল এককভাবে বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া হয়নি।
৫. ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি লিজ দেওয়া ভারত–ইসরাইলের তথাকথিত ‘আইমেক করিডর’ পরিকল্পনার অংশ। এতে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম বন্দর ভারত–ইসরাইল সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বের হওয়া কঠিন হবে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে হলে বন্দর ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে আফ্রিকান নয়, বরং চীনের নদী ও সমুদ্রকেন্দ্রিক বন্দর মডেল অনুসরণ করা উচিত। দেশীয় অপারেটরদের ধ্বংস না করে তাদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানান তারা।
সবশেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসে, তবে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্টস ফর সার্বভৌমত্বের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুবসহ প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন