স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৪ সালের এপ্রিলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পর্যটকদের লাঠিপেটার ঘটনায় আলোচনায় আসা ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী নুশরাত জাহান শমী।
গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬–এ মামলার আবেদন করেন নুশরাত জাহান শমী। আবেদনকারীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার বেগম রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী রাকিব হাসান।
আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের লিখিত আদেশ পাওয়া গেছে এবং একই দিনে মামলার আবেদনটি রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। মামলায় এএসপি তসলিম হুসাইন ছাড়াও তাঁর মা, ভাই ও বোনসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তসলিম হুসাইন বান্দরবান জেলার রুমা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক উদ্যোগে ২০২২ সালের ৩ জুন মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী এবং রেজিস্ট্রিকৃত নিকাহনামামূলে ৭ লাখ টাকা কাবিনে নুশরাত জাহান শমীর সঙ্গে তসলিম হুসাইনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি অন্য নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিভাগীয় তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির আদেশও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে চাপ প্রয়োগ করে বাদীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করেন তসলিম হুসাইন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। কখনো গাড়ি কেনা, কখনো জমি কেনা, গ্রামের ভিটা ভরাট, দামি মোবাইল ও ঘড়ি, রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কেনা এবং এমনকি অনলাইনে জুয়া খেলার নাম করেও যৌতুক গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্খলন, উগ্র ও বেপরোয়া জীবনযাপন, সরকারি বাসায় মদ্যপান ও মাদক সেবন, বিভিন্ন স্থানে হোটেলে নারী অতিথিসহ যাতায়াত, যৌতুকের কারণে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক টাকা ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে মামলায় বলা হয়।
এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তসলিম হুসাইন তাঁর স্ত্রীকে তালাকনামা পাঠান। তবে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আদালত চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ওই তালাকনামার কার্যক্রমের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রেগুলেটর পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে এএসপি তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় আলী আজগর (৩৬), তাঁর ভাই পুলিশ কনস্টেবল ওমর ফারুক (৩১), আজগরের স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার আচরণ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি