সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বুক চিরে একসময় প্রবহমান ছিল ৩১টি প্রাকৃতিক ছড়া ও খাল, যা পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান ধমনী হিসেবে কাজ করত। তবে সময়ের বিবর্তনে সেই প্রাকৃতিক জলপথগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। মালনি ছড়া থেকে গোয়ালি ছড়া—সর্বত্রই চলছে দখলের মহোৎসব। কোথাও খালের ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বহুতল ভবন, আবার কোথাও সীমানা প্রাচীর দিয়ে গিলে খাওয়া হয়েছে পানির স্বাভাবিক পথ। নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন মাঝেমধ্যে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালালেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব আর জনসচেতনতার ঘাটতিতে অধিকাংশ খাল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যার চরম মূল্য দিতে হয় বর্ষা মৌসুমে।
সামান্য বৃষ্টিতেই এখন নগরীর ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে এবং পুরো শহর বুকসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবীণ বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলছেন, এক সময় যেসব ছড়া দিয়ে নৌকা চলত, এখন মানুষ সেখানে হেঁটে পার হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতিবছর বড় অংকের বরাদ্দ এলেও খালের প্রশস্ততা ফেরাতে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে আসন্ন বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নগর প্রশাসন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) ছড়া ও খালের সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হাতে নিয়েছে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানান, সিটির পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডে প্রধান ১১টি ছড়াসহ ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৫টি ছড়া রয়েছে। এছাড়া বর্ধিত এলাকা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মতো ছড়া সিসিকের আওতাভুক্ত। তার দাবি অনুযায়ী, অধিকাংশ ছড়া ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি থাকা দখলকৃত অংশগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধারে কাজ চলছে। তবে পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সিলেটের এই ৩১টি ছড়া কেবল পানি নিষ্কাশনের পথ নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার প্রধান ঢাল। তাই প্রশাসনের কঠোর তদারকির পাশাপাশি যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না ফেরে, তবে আগামী বর্ষাতেও সিলেটবাসীকে জলমগ্ন হওয়ার আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটাতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন