| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সামনে রেখে ইরান ইস্যুতে কূটনীতি জোরদার করছে চীন

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ইং | ১৬:৪৯:১৬:অপরাহ্ন  |  ৪০৬ বার পঠিত
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সামনে রেখে ইরান ইস্যুতে কূটনীতি জোরদার করছে চীন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠককে সামনে রেখে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে বেইজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসের মাঝামাঝি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকই মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে চীনের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন তার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সচেষ্ট।

চীনের এই পরিমিত কূটনৈতিক অবস্থান এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, ইরানকে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় আনতে বেইজিং ভূমিকা রেখেছে বলে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন।

চীন-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন যে চীন ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছে। এতে বোঝা যায়, তারা আলোচনার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত, যদিও সরাসরি টেবিলে নেই।

চীনের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, ট্রাম্পকে কৌশলে সন্তুষ্ট রেখে বাণিজ্য ও তাইওয়ান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান এগিয়ে নিতে চায় বেইজিং। সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পকে রেড-কার্পেট সংবর্ধনা দিয়ে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১৪ ও ১৫ মে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে,যা গত আট বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে ইরানি বন্দরগুলো চাপে পড়ার পর চীন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে, তবে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কড়া সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছে যাতে শীর্ষ বৈঠক নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার শি জিনপিং চার দফা শান্তি প্রস্তাব দেন। এতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান নিয়ে সরাসরি সমালোচনা না করে বলেন, তারা “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” এবং সব পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি বৈঠক ও ফোনালাপ করেছেন যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতের লক্ষ্যে। একই সঙ্গে বিশেষ দূত ঝাই জুন উপসাগরীয় ও আরব অঞ্চলের পাঁচটি রাজধানী সফর করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চীনের প্রভাব থাকলেও তা সীমিত। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে বেইজিংয়ের সামরিক উপস্থিতি নেই, যা তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে বাস্তব শক্তি দিয়ে সমর্থন দিতে পারত।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক প্যাট্রিসিয়া কিম বলেন, ইরান চায় চীন যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টার হোক, কিন্তু বেইজিং সে ভূমিকায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

অন্যদিকে, আসন্ন ট্রাম্প-শি বৈঠকে চীন বোয়িং বিমান কেনা এবং কৃষিপণ্য আমদানির মতো বড় চুক্তিতে আগ্রহ দেখাতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাজার প্রবেশাধিকার বা শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে বড় কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক স্কট কেনেডি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে সক্রিয় কূটনীতি চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন চীনের প্রধান লক্ষ্য।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪