ওয়ার হুইল টার্নার: কানাডা-ইউরোপে সফলতার শিখরে পৌঁছেও জন্মভূমির টানে ফিরে আসতে চান প্রবাসী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো। চার দেশের নাগরিকত্ব, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক বিস্তার এবং উচ্চশিক্ষায় সমৃদ্ধ জীবন,সবকিছুর পরও তার আকাঙ্ক্ষা এখন শ্রীমঙ্গলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশির গ্রামে জন্ম নেওয়া যশো ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ইউরোপে পাড়ি জমান। সেখানে কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে তিনি ২০২১ সালে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ল্যুভেন থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস’ এবং ২০২৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ল’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যাচেলর অব ল (এলএলবি) অধ্যয়নরত, যা ২০২৯ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মজীবনের শুরুতে কানাডার ম্যানিটোভা থেকে ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং একই সঙ্গে তিনি এই চার দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করছেন।
তবে প্রবাসজীবনের সাফল্যের মাঝেও দেশের প্রতি তার টান কখনও কমেনি। শ্রীমঙ্গলে তিনি নিয়মিত দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের সহায়তা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদান,সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তার নীরব উপস্থিতি।
সম্প্রতি কানাডার একটি বাংলা টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যশো জানান, জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি দেশের মানুষের সেবায় কাটাতে চান। সেই লক্ষ্যেই জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা না হলেও ইতোমধ্যে তিনি শ্রীমঙ্গলজুড়ে মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৫ জন, যার বড় একটি অংশ চা-শ্রমিক সম্প্রদায়। ঐতিহাসিকভাবে ‘ব্লক ভোট’ হিসেবে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছেন যশো। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
কৃষক, দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের প্রতিও রয়েছে তার বিশেষ নজর। কানাডার বেঙ্গলি টাইমসের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরে মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার অঞ্চলের মানুষ সত্যিই উপকৃত হবে। কারণ যশোর এখন আর পাওয়ার কিছু নেই,দেওয়ার আছে প্রবল ইচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি