নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক গৃহবধূ তার নবজাতক কন্যাশিশুকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকার মোজাম্মেল মিয়ার ভাড়া বাসায় গৃহবধূ রাহেনা বেগম ওই শিশুর জন্ম দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সকালে শিশুটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেন রাহেনা। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত নদী থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করে ভেতর থেকে জীবিত শিশুটিকে বের করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন।
খবর পেয়ে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আরিফ তালুকদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটিকে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উদ্ধার করায় শিশুটি বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাহেনা বেগমের স্বামী আব্দুল মালেক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও জীবিকার তাগিদে রিকশা চালান। তাদের আগে থেকেই তিনটি সন্তান রয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তারা বক্তারকান্দী এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেছেন। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও পারিবারিক চাপের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার পর বন্দর থানা পুলিশ বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করে। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ঘটনাস্থলে এসে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে নবজাতকটিকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শিশুটির নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নজরদারিতে থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি