ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানের পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এই ট্যাংকার জাহাজগুলো জব্দ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার একদিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ট্যাংকার জাহাজগুলোর নাম ডিপ সি, সেভিন এবং দোরেনা।
আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি জাহাজেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল। তবে ঠিক কোন স্থানে জাহাজগুলো আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
বাণিজ্যিক নৌযান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরের একটি এলাকায় এই জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলটি ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক সীমান্তের কাছাকাছি।
জানা গেছে, ডিপ সি একটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ, যা আটক করার সময় আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। এটি সর্বশেষ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে, সেভিন নামের জাহাজটিতে জব্দের সময় প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যা এর মোট ধারণক্ষমতার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূল এলাকায় এটি সর্বশেষ শনাক্ত করা হয়।
তৃতীয় জাহাজ দোরেনা ছিল সম্পূর্ণ তেলভর্তি। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি এটিকে শেষবার দেখা যায়।
এর আগে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরদিনই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান শান্তি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির কোনো জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারবে না এবং বাইরের কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশ করতে পারবে না।
সর্বশেষ এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের বন্দর ছাড়ার চেষ্টা করা ২৯টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ