| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঝগড়ার ধরন বুঝে উত্তর দিন

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ইং | ১৯:২৩:৪৪:অপরাহ্ন  |  ১৪৬০ বার পঠিত
ঝগড়ার ধরন বুঝে উত্তর দিন

রিপোর্টার্স ডেস্ক: পড়ন্ত বিকেলে ঘরের কোণে জমে থাকা নোংরা থালাবাসন নিয়ে রুমমেটের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে অমিল, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মতবিরোধ, ঝগড়া বা ‘কনফ্লিক্ট’ এক অনিবার্য বাস্তবতা। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক থাকলে সেখানে ঘর্ষণ থাকবেই। কিন্তু মজার বিষয় হলো, ঝগড়া হওয়াটা সম্পর্কের জন্য যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি আমরা সেই ঝগড়া বা মতবিরোধ কীভাবে সামলাচ্ছি।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, চাপের মুখে আমরা প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট কিছু আচরণ করি। মোট কথা কিছু আচরণ করতে আমরা অভ্যস্ত থাকি। যাকে বলা হয় ‘কনফ্লিক্ট স্টাইল’। সে ক্ষেত্রে আপনার ডিফল্ট স্টাইল বা অভ্যস্ত আচরণটা কেমন, তা যদি বুঝতে পারলেন, তাহলেই খেলা জমে গেল। এটি শুধু আপনার সম্পর্কের জটিলতাই দূর করবে না, বরং উপকারই করবে। এটা অন্যের সঙ্গে আপনি আরও ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ধরনের প্রধানত ৫টি ভাগ

থমাস-কিলম্যান মডেল অনুযায়ী, মতবিরোধ সামলানোর ধরনকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রতিযোগিতামূলক: এখানে নিজের প্রয়োজনটাই বড়। যারা মনে করে ‘আমাকে জিততেই হবে’, তারা এই দলে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে এটি কার্যকর হলেও সব সময় এমন আচরণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এড়িয়ে চলা: ঝামেলা দেখলেই যারা ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বা প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলে, এতে সাময়িক শান্তি আসলেও মনের ভেতর ক্ষোভ জমতে থাকে।

মানিয়ে নেওয়া: নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েও যারা অপরকে খুশি রাখতে চায়। এরা সম্পর্কের শান্তি বজায় রাখলেও নিজের প্রতি অসম্মান বা আক্ষেপ তৈরি করতে পারে।

আপস করা: মাঝপথ খুঁজে নেওয়া। এখানে দুপক্ষই কিছুটা ছাড় দেয়। এটি কার্যকর হলেও অনেক সময় মূল সমস্যাটি অমীমাংসিত থেকে যায়।

সহযোগিতামূলক: এটি আদর্শ স্টাইল। এখানে দুপক্ষই খোলামেলা আলোচনা করে এমন সমাধান খোঁজে, যাতে কারওরই মনে কোনো খচখচানি না থাকে।

নিজেকে চিনুন

মূলত বুঝতে পারাটাই সমাধানের প্রথম ধাপ। নিজের বা প্রিয়জনের কনফ্লিক্ট স্টাইল জানা মানে তাকে কোনো ট্যাগ দেওয়া নয়। বরং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরিধি বাড়ানো। সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে মাঝেমধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতা এবং এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে সরাসরি আলোচনার চর্চা করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। মনে রাখবেন, সঠিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে জানলে সেই লড়াই সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তোলে। ওপরের পাঁচটি ভাগকে আরও বিস্তারিতভাবে ১৫টি পরিচিত চরিত্রে ভাগ করা যেতে পারে।

পরিহারকারী বা অ্যাভয়েডার: এরা মনে করে সমস্যা নিয়ে কথা না বললে তা এমনিতেই সেরে যাবে। কিন্তু সমস্যা না ফুরিয়ে বড় আকার ধারণ করে।

তর্ক বাতিক: যারা সব সময় তর্কে জিততে চায় এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে অপরকে কোণঠাসা করে ফেলে। 

পরোক্ষ-আক্রমণাত্মক বা প্যাসিভ-অ্যাগ্রেসিভ: এরা সরাসরি কিছু না বলে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা নীরবতার মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

অন্যকে খুশি রাখা বা পিপল-প্লিডার: নিজের প্রয়োজন ভুলে সব সময় অপরকে খুশি রাখতে চায়। এরা অনেক সময় এমন কাজেও ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলে যা তারা করতে চায় না।

বিস্ফোরক বা এক্সপ্লোডার: সব আবেগ নিজের ভেতর চেপে রাখে এবং হুট করে একদিন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে।

যুক্তিবাদী বিতার্কিক বা লজিক্যাল ডিবেটার: তর্কের সময় এরা শুধু যুক্তি আর তথ্য দেখে, উল্টো দিকের মানুষের আবেগ বা অনুভূতিকে একদম পাত্তা দেয় না।

সবাইকে খুশি রাখা বা ফিক্সার: অপর পক্ষ কী বলতে চায় তা পুরোপুরি শোনার আগেই এরা সমাধান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

চুপ করে যাওয়া বা স্টোনওয়ালার: তর্কের মাঝে হুট করে কথা বলা বন্ধ করে দেয় বা চুপ হয়ে যায়, যা অপর পক্ষকে আরও বেশি হতাশ করে তোলে।

দোষারোপ করা বা ডিফেন্সিভ রিঅ্যাক্টর: যেকোনো সমালোচনাকে এরা ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ধরে নেয় এবং নিজেকে বাঁচাতে উল্টো অপরকে দোষারোপ করে। এ ছাড়া আছে ডিলার যারা কথা বলতে সময় চায়। হিউমার ডিফ্লেক্টর যারা জোকস বলে সিরিয়াস সমস্যা এড়িয়ে যায় এবং রিফ্লেক্টিভ প্রসেসর যারা চিন্তা করার জন্য সময় নিয়ে ধীরস্থিরভাবে কথা বলতে পছন্দ করে।

সম্পর্কের জটিলতা কাটাতে কী করবেন?

নিজের ধরন বুঝুন: পরবর্তী তর্কের সময় লক্ষ করুন আপনি কী করছেন। আপনি কি পিছিয়ে যাচ্ছেন নাকি ঝাঁপিয়ে পড়ছেন? নিজের ভুলগুলো আগে চিহ্নিত করুন।

সমস্যার নাম দিন: যদি দেখেন ঝগড়া বাড়ছে, তবে শান্তভাবে বলুন, ‘আমি মনে হয় আলোচনাটা এড়িয়ে যাচ্ছি, চল একটু পরে এটা নিয়ে বসি।’ এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়া বন্ধ হবে।

মানুষ নয়, সমস্যাকে দেখুন: ‘তুমি সব সময় এমন করো’—এ রকম ঢালাও মন্তব্য না করে নির্দিষ্ট সমস্যাটি নিয়ে কথা বলুন।

শুনিয়ে দিন নিজের কথা: আপনি যদি পিপল-প্লিডার হন, তবে ‘না’ বলা শিখুন। আর যদি এক্সপ্লোডার হন, তবে ছোট ছোট বিষয়ে শুরু থেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন যাতে ভেতরে ক্ষোভ জমা না থাকে।

লজিকের সঙ্গে এমপ্যাথি: তর্কের সময় শুধু যুক্তি না দিয়ে অপর মানুষের কষ্ট বা আবেগ বোঝার চেষ্টা করুন। সমাধান দেওয়ার আগে তাকে মন দিয়ে শুনুন।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪