| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিনিয়োগে জোর

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ইং | ০২:৪৯:১২:পূর্বাহ্ন  |  ৪২৪ বার পঠিত
চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিনিয়োগে জোর

স্টাফ রিপোর্টার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ৫ মে দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনের রাজধানী বেইজিং যাচ্ছেন। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান।

সূত্র জানায়, ৬ মে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারের পথ খোঁজাই হবে আলোচনার মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে বিগত বছরগুলোতে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। চীন এ বিষয়ে অগ্রগতির নিশ্চয়তা চাইতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, বিশেষ করে গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও শিল্পায়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

তিস্তা প্রকল্প, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বয় এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যুও আলোচনায় আসবে। বিশেষ করে মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করবে ঢাকা।

এছাড়া বাংলাদেশ চায়, যেসব প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন হোক এবং ভবিষ্যতে ঋণের শর্ত আরও সহজ করা হোক। উন্নয়ন সহযোগিতা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের অগ্রগতি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, নীলফামারীতে প্রস্তাবিত চীনা বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।

স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, রেলওয়ে, শিপিং, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, পাশাপাশি আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ সফরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সির জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় চীনের সমর্থন চাইবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি ব্রিকস, আরসিইপি ও এসসিও-তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

চীনা সূত্রগুলো বলছে, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। তাই বিনিয়োগের নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করার বিষয়টি চীনের এজেন্ডায় গুরুত্ব পাবে।

দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী চীন। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে নীতির পরিবর্তন হলে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, তিস্তা মাস্টার প্ল্যানসহ বিভিন্ন বিআরআই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, শিল্প স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্পপণ্য আমদানি বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়েও চীন আগ্রহী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪