রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করাই বর্তমান সরকারের নীতি। তিনি বলেন, ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য, আর প্রতিটি ধর্মই মানবজাতিকে নৈতিক ও মানবিক পথে পরিচালিত করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছে। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান জানায় এবং কিছু বিধিবদ্ধ নীতি-আদর্শ অনুসরণ করতে বলে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকা। একইসঙ্গে প্রেম, অহিংসা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনও বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, এসব নীতির অনুসরণ শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করেন, তাহলে একটি মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনই আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ধর্ম নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও করিনি। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার এটাই আমাদের নীতি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলে আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই দেশ অর্জিত হয়েছে। তাই এই দেশ সবার, এখানে কোনো বিভাজন নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করে। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না, আমরা সবাই বাংলাদেশি এটাই আমাদের পরিচয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম