ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বৈশ্বিক অটোমোবাইল বাজারে দামের এক বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন গাড়ির গড় দামে চীনে বর্তমানে একাধিক উন্নত প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) কেনা সম্ভব হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন গাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ৫১ হাজার ৪৫৬ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার চীনে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে যানবাহনের দাম দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেইজিং অটো শো-তে দেখা গেছে, চীনে ২৫ হাজার ডলারের কম দামে ২০০টিরও বেশি ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড মডেলের গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, দেশটিতে এমন পাঁচটি জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক মডেল রয়েছে যেগুলোর প্রতিটির দাম ১২ হাজার ডলারের নিচে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ একটি গাড়ি কেনার অর্থ দিয়ে চীনে অনায়াসে পাঁচটি জনপ্রিয় ইভি সংগ্রহ করা সম্ভব। মূলত চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদন বৃদ্ধি ও তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাই এই অবিশ্বাস্য মূল্য হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কম দামের এই গাড়িগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও প্রযুক্তির দিক থেকে এগুলো বেশ আধুনিক ও ফিচার-সমৃদ্ধ। যদিও নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে এগুলো মার্কিন বাজারে বিক্রি হয় না এবং অদূর ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনাও কম, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন কারিগরি উৎকর্ষে এগুলো পিছিয়ে নেই। শহুরে গ্রাহকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই গাড়িগুলোতে বড় টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, মাল্টিপল স্টোরেজ এবং স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো আকর্ষণীয় সুবিধা রাখা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র ও সাশ্রয়ী ইভিগুলো মূলত স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সাশ্রয়ী গাড়ির তালিকায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে ‘জিলি এক্স২’ মডেলটি, যার প্রারম্ভিক দাম মাত্র ১০ হাজার ৬০ ডলারের মতো। ২০২৫ সালে চীনের বাজারে অন্যতম শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে জায়গা করে নেওয়া এই গাড়িটি একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ২৫৫ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। অন্যদিকে, আরও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে ‘উলিং হংগুয়াং মিনিইভি’, যার দাম মাত্র ৬ হাজার ৫৬০ ডলার। চার দরজার এই নতুন সংস্করণটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬২ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এবং একবার চার্জে প্রায় ১২৭ মাইল পর্যন্ত সেবা দিতে পারে। মূলত এই বিশাল দামের পার্থক্যের কারণে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বিপ্লব এখন বিশ্ব অটোমোবাইল খাতের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব