| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৩, ২০২৬ ইং | ২২:২৪:৫২:অপরাহ্ন  |  ২৫৯ বার পঠিত
ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ৯ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। তেহরানের এই ১৪ দফার প্রস্তাবে মূল লক্ষ্য রাখা হয়েছে শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ‘যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি’। তেহরান চাইছে, একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রস্তাবে দুই মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। তবে, ইরান এই দীর্ঘসূত্রিতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তেহরানের প্রস্তাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যাবতীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে। ইরানের মতে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরিবর্তে স্থায়ীভাবে ‘যুদ্ধের অবসান’ করার দিকে হওয়া উচিত।

ইরান তাদের সবশেষ ১৪ দফার এই প্রস্তাবনায় বেশ কিছু কঠোর ও কৌশলগত শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৬টি হলো- 

১/ আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানের ওপর কোনো হামলা চালাবে না, এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে হবে।

২/ সেনা প্রত্যাহার: ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।

৩/ অবরোধ ও সম্পদ মুক্তি: ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করতে হবে।

৪/ ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা: যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে।

৫/ আঞ্চলিক শান্তি: শুধু ইরানের মূল ভূখণ্ডে নয়, বরং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

৬/ হরমুজ প্রণালী: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা বা মেকানিজম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাব এখন হোয়াইট হাউসের টেবিলে। ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৩০ দিনের সময়সীমা এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো শর্তগুলো মেনে নেয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতা কমাতে এই প্রস্তাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী শান্তির এই পথে হাঁটে নাকি সাময়িক স্বস্তির জন্য আগের অবস্থানেই অনড় থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের ফিরতি উত্তরে ঝুলে আছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪