| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংবিধানে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৩, ২০২৬ ইং | ২৩:১৯:৫১:অপরাহ্ন  |  ৩১২ বার পঠিত
সংবিধানে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন

অ্যাড. আমিনুল ইসলাম (মল্লিক)

নারী আমার মা, নারী আমার বোন, নারী আমার স্ত্রী। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে অর্ধেকই নারী। নয় কোটি, সংখ্যাটি কম নয়। তাদের অধিকার, অবদান ও মর্যাদা কোনোমতেই ভুলে গেলে চলবে না। এসব বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সংবিধান ও তাদেরকে অধিকার দিয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো আমাদের সংবিধানেও নারীর অধিকার নিয়ে স্পষ্ট বলা আছে। সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদে অত্যন্ত সুনিপুণ ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে নারীর অধিকারগুলো। যা তাদের আপন সত্ত্বাকে উদ্ভাসিত, গৌরবান্বিত ও মহিমান্বিত করেছে।

আমাদের সংবিধান দিয়েছে নারীর অধিকারের প্রতি এক অসাধারণ স্বীকৃতি। সাংবিধানিকভাবে নারী-পুরুষের বৈষম্য করার কোনও সুযোগ নেই। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী,বর্ণ, নারী-পরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না’। সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরের নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন’।

সংবিধানের ২৮(৩) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী,বর্ণ,নারী-পরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না’। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে,‘নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না’।

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা থাকবে।

সংবিধানের ২৯(৩)(ক)অনুচ্ছেদে বলা আছে, নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মী উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধা-প্রণয়ন করা হইতে।

(খ) কোনো ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ সম্প্রদায়ভুক্তব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান-সংবলিত যেকোনো আইন কার্যকর করা হইতে,

(গ) যে শ্রেণির কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেই রুপ যে কোনো শ্রেণির নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষের বা নারীর সংরক্ষন করা হইতে রাষ্ট্রকে নিভৃত করিবে।

সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদের বলা আছে নারীর প্রতিনিধিত্ব করার কথা। নারীর জন্য জাতীয় সংসদে ৫০ টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ৯ অনুচ্ছেদের অধীনে স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়নে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন তুলনামূলকভাবে কম লক্ষ করা গেছে। তার মধ্যে আদালতপাড়া অন্যতম।

সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এখানকার উভয় বিভাগেই ক্ষমতায়নের দিক থেকে নারীদের অবস্থান শোচনীয়। সুপ্রিম কোর্টে মোট ১০৫জন বিচারপতির মধ্যে নারী বিচারপতি রয়েছেন ১২ জন। সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৪৩জন আইনজীবী। এর মধ্যে ৬৭ জন নারী আইনজীবী ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে আইনজীবীদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নেতৃত্বে নারী প্রতিনিধি নেই, নির্বাচনে নারীদের নমিনেশন তেমন একটা দেখা যায় না। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি, নারীদের পদায়নের কথা বলি, নারী নেতৃত্বের কথা বলি, নারী অধিকারের কথা বলি, নারী অধিকার বাস্তবায়নের জন্য আমরা সোচ্চার অথচ সবচেয়ে বঞ্চনার শিকারই নারীরা।

প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি পূর্ণরুপে বিশ্বাস থাকলে নারীর প্রতি কোনও রকম বৈষম্য থাকার বা বৈষম্যমূলক কোনও আচরণ করার সুযোগ নেই। অধিকার আদায়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন নারীরা। কখনো লাভবান কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তবে নারীর ক্ষমতায়নের আশার দিকও আছে। জাতীয় সংসদে নারীদের জায়গা করে দিতে ৫০টি সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক নারী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

লেখক: সদস্য (ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি)

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪