| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পরমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি ইরান!

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৩, ২০২৬ ইং | ২২:৩৪:২৫:অপরাহ্ন  |  ৪৩১ বার পঠিত
পরমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি ইরান!

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে শান্তির পথে নতুন এক কূটনৈতিক মোড় নিয়েছে ইরান। মার্কিন সামরিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে তেহরান। শনিবার এই প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে তিনি এটি পর্যালোচনার কথা বললেও, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনই নিশ্চয়তা দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান যে ১৪ দফার প্রস্তাব পেশ করেছে, তার অভ্যন্তরীণ পর্যায়গুলো বিশ্লেষণ করলে এক নতুন কূটনৈতিক কৌশলের আভাস পাওয়া যায়। এই প্রস্তাবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের বিস্তারিত তথ্য এখন সামনে এসেছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্কের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও ‘জিরো-স্টোরেজ’ নীতি

প্রস্তাবের দ্বিতীয় ধাপে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে চায়। তবে এক্ষেত্রে তারা ‘জিরো-স্টোরেজ’ বা শূন্য-মজুত নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসন করা যায়। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামো ধ্বংস বা গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

কূটনৈতিক পথে কিছুটা নমনীয় হলেও পরমাণু সক্ষমতা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ইরান তার অবস্থানে অনড়। তেহরান চায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় থাকুক। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা তার জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া নিয়েও দুই পক্ষ এখনো বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।

পারস্পরিক হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরান একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা বলয় তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর কোনো ধরণের সামরিক হামলা চালাবে না। বিনিময়ে ইরানও তাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দেবে। মূলত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করাই এই দফার মূল লক্ষ্য।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থের অবমুক্তি

অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ইরান ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ‘ফ্রোজেন ফান্ড’ বা জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের মতে, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া কোনো শান্তি প্রক্রিয়াই ফলপ্রসূ হবে না।

আঞ্চলিক সংলাপ ও মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে তেহরান একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা বলেছে। তারা তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সাথে একটি ‘কৌশলগত সংলাপে’ বসতে আগ্রহী। ইরানের লক্ষ্য হলো সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছে যে, বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভর না করে অঞ্চলের দেশগুলো নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

ইরানের এই প্রস্তাবগুলো এখন ওয়াশিংটনের টেবিলে। একদিকে পারমাণবিক অবকাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার জেদ, অন্যদিকে আরব প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়া, তেহরানের এই দ্বিমুখী কৌশল হোয়াইট হাউস কীভাবে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতি ও তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা।

শান্তি প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট ও মূল বিষয়বস্তু

গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই নতুন প্রস্তাবটি এলো। এর আগে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ৯ দফার পরিকল্পনা দিয়েছিল, যার জবাবে ইরান এই ১৪ দফা তৈরি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর মতে, তেহরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব বিরোধ মিটিয়ে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়।

মাঠের পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৬৫ ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের সব বন্দরে অবরোধ আরোপ করেছে। এমনকি মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক করার পর ট্রাম্প সেটিকে এক ধরণের ‘লাভজনক ব্যবসা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাকে ইরান ‘জলদস্যুতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল মাসগ্রেভের মতে, ইরান তাদের প্রস্তাবে কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও পরমাণু কর্মসূচির সার্বভৌম ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। অন্যদিকে, কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সির মতে, ট্রাম্পের নৌ-অবরোধ কৌশলটি হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরতি চলাকালীন অবরোধের ফলে তেলের বাজার যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানিয়েছেন, গত ৪৭ বছরে ইরান বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে তার তুলনায় তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য চোকায়নি। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের, তা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪