চাঁদপুর প্রতিনিধি: বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুব আলমকে আদালতে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গত ৫ মে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক চার শিক্ষার্থীকে আদালতের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করায় আইনি প্রশ্ন তুলেছেন চাঁদপুরের আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ। তিনি গত রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন।
বিচারকের আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারা অনুযায়ী ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১০ ধারার অধীনে এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম বা সাজা প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার জুডিশিয়াল বা আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের, যা কোনোভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা আইনগত এখতিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২২০ ধারার পরিপন্থি হতে পারে বলেও আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হলো না, সে বিষয়ে সুষ্ঠু ও আইনানুগ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য শাহরাস্তি থানার ওসিকে মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। এদিন ওসিকে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে শাহরাস্তি থানার ওসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওসি স্যার আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন এবং অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হবেন।
তিনি আরও জানান, যে চার ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং যে পালিয়ে গেছে তারা সবাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আর ভিকটিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইভটিজিংয়ের পরদিন ৫ মে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনের কাছে তাদের হাজির করা হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৭ দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে চারজনের অভিভাবকরা টাকা পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে নেন।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু