রিপোর্টার্স ডেস্ক: মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় নিজেদেরই গড়া পুরোনো বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে আবারও পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন কীর্তি স্থাপন করেছেন নেপালের দুই প্রখ্যাত গাইড ও পর্বতারোহী। 'এভারেস্ট ম্যান' হিসেবে পরিচিত কামি রিতা শেরপা রেকর্ড ৩২তম বারের মতো এবং ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত ল্যাকপা শেরপা নারীদের মধ্যে রেকর্ড ১১তম বারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ এই শৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।
নেপালের ৫৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মাউন্টেন গাইড কামি রিতা শেরপা গত রোববার একদল বিদেশি আরোহীকে পথ দেখিয়ে ৮,৮৪৯ মিটার (২৯,০৩২ ফুট) উঁচু এভারেস্ট চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার সময় নিজের গড়া পূর্বের ৩১ বার আরোহণের বিশ্ব রেকর্ডটি ভেঙে দেন। নেপালের সোলুখুম্বু অঞ্চলের এক পর্বতারোহী পরিবারে জন্ম নেওয়া কামি রিতা ১৯৯৪ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই, এমনকি কোনো কোনো বছর দুইবার করেও তিনি এই চূড়ায় পা রেখেছেন। ২০১৮ সালে ২২তম বার এভারেস্টে উঠে তিনি প্রথম একক বিশ্ব রেকর্ডের মালিক হন এবং এরপর থেকে প্রতি বছরই তিনি সেই রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার তিনি '১৪ পিকস এক্সপেডিশন' কোম্পানির হয়ে আরোহীদের গাইড হিসেবে এই ঐতিহাসিক সফলতা পান।
একই দিনে ৫২ বছর বয়সী ল্যাকপা শেরপা নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্ট জয়ের নিজের রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করেন। এটি ছিল তাঁর ১১তম সফল এভারেস্ট আরোহণ। ২০০০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করার মাধ্যমে ল্যাকপা প্রথম নেপালি নারী হিসেবে সফলভাবে চূড়ায় উঠে আবার নিরাপদে নেমে আসার কীর্তি গড়েছিলেন।
একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তাঁর জীবনযুদ্ধ এবং বারবার এভারেস্ট জয়ের অদম্য গল্প নিয়ে ২০২৩ সালে ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে একটি জনপ্রিয় তথ্যচিত্রও (ডকুমেন্টারি) নির্মিত হয়েছে।
দুই পর্বতারোহীর এই অনন্য ও ঐতিহাসিক অর্জনে নেপালের পর্যটন বিভাগ তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। এছাড়া নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে দুই বীরকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, তাঁরা আরও একবার ইতিহাস পুনর্লিখন করলেন। এমন ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু অবিচল সাহস, কঠোর আত্মশৃঙ্খলা এবং নিজের কাজের প্রতি সৎ নিষ্ঠার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
চলতি বছরের এভারেস্ট আরোহণের মৌসুম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশ ব্যস্ত এবং চ্যালেঞ্জিং। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে এবার রেকর্ড সংখ্যক, প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার অনুমতি (পারমিট) দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বেশিরভাগ বিদেশি আরোহীই অন্তত একজন স্থানীয় গাইডকে সাথে নিয়ে যাত্রা করেন (যাঁদের আলাদা পারমিট লাগে না), তাই এভারেস্টে এবার মানুষের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়।
তবে মৌসুমের শুরুতে বেস ক্যাম্প থেকে ওপরে ওঠার মূল রুটে একটি বিশাল ও বিপজ্জনক হিমবাহের খণ্ড (গ্লেসিয়ার) আড়াআড়িভাবে আটকে থাকায় রুটটি খুলতে বেশ দেরি হয়। এই বিলম্বের কারণে একই সময়ে অনেক আরোহী একসাথে চূড়ার দিকে যাত্রা করায় পর্বতের সরু পথগুলোতে বিপজ্জনক ‘ট্রাফিক জ্যাম’ বা দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সব বাধা এড়িয়ে এই দুই নেপালি শেরপার জোড়া রেকর্ড নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব