| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিশু রামিসা হত্যা: অভিযুক্ত সোহেলের অতীতও অন্ধকার

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২১, ২০২৬ ইং | ১৯:২০:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৪৩২৪০ বার পঠিত
শিশু রামিসা হত্যা: অভিযুক্ত সোহেলের অতীতও অন্ধকার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা যখন পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার অন্ধকার অতীতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়া মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে চুরির অপবাদ, পরকীয়া, লাখ লাখ টাকার জুয়ার ঋণ আর পারিবারিক কলহের জেরে তিন বছর আগেই গ্রামছাড়া হয়েছিলেন সোহেল। এরপর ঢাকায় গিয়ে পরিচয় লুকিয়া বসবাস করছিলেন।

নাটোর থেকে ঢাকা যাওয়ার কারণ: 

সোহেল রানার আদি বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা মো. জাকির আলীর তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় সোহেল এলাকায় একজন সাধারণ রিকশার মেকানিক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ মেকানিক পরিচয়ের আড়ালেই তার মধ্যে লুকিয়ে ছিল জুয়া, মাদক ও চুরির মতো অপরাধের দীর্ঘ তালিকা।

কাজের সূত্র ধরে গ্রামীণ শান্ত পরিবেশেই নিজের অপরাধের জাল বুনতে শুরু করেছিলেন সোহেল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত জুয়া খেলতে গিয়ে মাত্র কয়েক বছরেই প্রায় আট থেকে ১০ লাখ টাকার বিশাল ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন সোহেল। ঋণের দায় এবং ক্রমাগত চুরির অপবাদে একপর্যায়ে তার বাবা অতিষ্ঠ হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে বাধ্য হন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

পরকীয়া ও পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙন: 

সোহেল রানার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল চরম কলঙ্কিত।  গ্রামে প্রথম বিয়ে করার পর তার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তার বিরুদ্ধে নিজের ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।

সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, এলাকায় থাকাকালে তার ভাই নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। প্রায় তিন বছর আগে পরিবার থেকে বের করে দেওয়ার পর তার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। মিডিয়ার মাধ্যমে তারা রামিসা হত্যার খবর পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর সিংড়ার বালুয়া বাসুয়া এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন সোহেল। কিন্তু সেখানেও টিকতে পারেননি। ঋণের বোঝা আর কলঙ্কের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় তিন বছর আগে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে যান সোহেল।

পরিচয় গোপন ও শেষ রক্ষা হলো না:

ঢাকায় যাওয়ার পর নিজের আসল পরিচয় আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন সোহেল। এমনকি নিজের বাবার নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে পল্লবী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিন বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে নিজেকে লুকিয়ে রাখলেও শিশু রামিসা হত্যার মধ্য দিয়ে তার সেই ভয়ানক অপরাধী রূপটি দেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত হলো। উন্মোচিত হলো তার পরিবারের কাছেও।

পুলিশের বক্তব্য ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ: 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, থানার রেকর্ড অনুযায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মামলা করা হয়নি। নথিপত্র খুঁজে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামীণ সালিশ ও পারিবারিক লজ্জার কারণে অনেক অপরাধই পুলিশের খাতায় ওঠেনি। তবে এ ঘাতকের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। 

এদিকে বর্তমানে মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের বাতাসে বইছে ক্ষোভ। নিজের এলাকার একজন দুর্বৃত্তের হাতে ঢাকার এক নিষ্পাপ শিশুর এমন নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। গ্রামবাসী এখন একযোগে একটাই দাবি তুলছেন-শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করতে হবে, খুনি সোহেল রানাকে ফাঁসি দিতে হবে।

গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ১১ নম্বরে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।

পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকতো রামিসা। সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। 

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে সোহেল কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪