| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকা মেডিকেলের প্রতিটি করিডোরে মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প: প্রধানমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১১, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৫:২৩:অপরাহ্ন  |  ১১১৫ বার পঠিত
ঢাকা মেডিকেলের প্রতিটি করিডোরে মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু চিকিৎসাসেবায় নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং বর্তমানে বেঁচে নেই, তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশ-বিদেশের দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করেনি, এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধারাও বের হয়েছেন, যারা মানুষের জীবন রক্ষা ও কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ ও করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তৈরি হয়। এখানে যেমন অনেক জীবনের অবসান ঘটে, তেমনি অনেক নতুন জীবনের সূচনাও হয়। একজন চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে থাকে চিকিৎসকের শ্রবণশক্তি, অন্য প্রান্তে থাকে একটি মানুষের জীবনের স্পন্দন। চিকিৎসক ও রোগীকে ঘিরেই একটি পরিবারের গভীর বিশ্বাস গড়ে ওঠে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে চিকিৎসকরা সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন। বিপদে-আপদে অসুস্থ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হয়ে ওঠেন চিকিৎসকেরা। একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক ব্যবহার অনেক সময় রোগীর জন্য ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ পূরণেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

‘Prevention is better than cure’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়ে আগাম সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তিনি জানান, সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হেলথ কেয়ারার থাকবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল দিয়ে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং দায়িত্বশীল জীবনাচরণও সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতের পর এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমাতে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ক্ষেত্রে কর কমানো বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার হাসপাতাল নির্মাণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে কাজ করছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেডিকেল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাত ধরেই ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমে আসবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪