| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১১, ২০২৬ ইং | ১৩:৩০:২৬:অপরাহ্ন  |  ১৭৪৯ বার পঠিত
চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময় নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে মানসিকভাবে অনেকটা সুস্থ করে তুলতে পারে। তাই ওষুধ ও চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি বা পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একটি মহান সেবা। মানুষ যখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে একজন চিকিৎসকের ওপর।

তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চাকরির শুরুর দিকে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার পরামর্শ দিতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসা দিতে হবে। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতার পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছুটি উপেক্ষা করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত অবদান এবং এটাই তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর দ্রুত প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই অধিকারের দাবিদার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের পাংচুয়ালিটি (সময়নিষ্ঠা) ও মেডিকেল এথিকস বজায় থাকলে তারা দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪