ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মামলা না নেওয়ার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীরা থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে পরে থানার গেট ভেঙে ফের হামলার অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে হামলার বিষয়টি জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লেখেন, ‘থানার গেট ভেঙে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল হামলা করেছে।’ পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিওও সংযুক্ত করেন তিনি। ভিডিওতে থানার সামনে পুলিশ সদস্য ও বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্লিজ, সেভ আস।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে সাহেদের পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হন।
ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় থানার বাইরে অবস্থান নেন এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
হামলার জন্য ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি ও আইনমন্ত্রী আব্দুল মজিদ–এর অনুসারীদের দায়ী করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ৩-৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার বিচার চাই। আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইনশৃঙ্খলার এমন অবস্থা হয়, তাহলে তাঁর মন্ত্রী থাকার প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মামলা গ্রহণে বিলম্বের বিষয়ে ওসি জানান, সার্ভার জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগটি আমলযোগ্য হওয়ায় সেটি নেওয়া হবে। সার্ভার স্বাভাবিক হলেই অভিযোগ অনলাইনে এন্ট্রি করা হবে।