আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সফরকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রেক্ষাপটে সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের এই সফরকে কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের কঠোর বক্তব্যও সামনে এসেছে। দেশটির এক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বাজুকা হাতে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘কৌশলগত ভুল’ করা হলে তেলআবিবসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি রাজধানী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের জুমার খতিব মোহাম্মদ নবী মুসাভিফার্দ বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান তেলআবিবের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, কুয়েত সিটি ও বাহরাইনের মানামাকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।
অন্যদিকে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ বলেছেন, শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ নিলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে আরও কঠোর ও জোরালো জবাব দেবে।