| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রামিসা হত্যাকাণ্ড: আসামিদের আইনজীবীর জেরার মুখে পড়েন তদন্ত কর্মকর্তা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০২, ২০২৬ ইং | ২৩:১১:৪৩:অপরাহ্ন  |  ৩৮৩ বার পঠিত
রামিসা হত্যাকাণ্ড: আসামিদের আইনজীবীর জেরার মুখে পড়েন তদন্ত কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রামিসার মা, বাবা, বোন, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ায় আগামীকাল আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

এদিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন আসামিদের আইনজীবীর জেরার মুখে পড়েন।

তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া সাক্ষ্যগ্রহণে বলেন, গত ১৯ মে রাত ১২টা ৫ মিনিটে মামলা রেকর্ড হয়। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রেখে জিঙ্গাসাবাদ করি। পরদিন ২০ মে সকাল ৮ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যাই। মামলার ভুক্তভোগীর ময়নাতদন্ত করি। পরে আবার ঘটানাস্থলে গিয়ে মামলার বাদীসহ ১০ জনের জবানবন্দি নিই।

পরে রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করি। ডিএনএ রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যার পর ভুক্তভোগীর ডিএনএ টেস্ট করার স্থান পানি দিয়ে ধৌত করা থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ডিএনএ টেস্ট করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, প্রমাণ, পরীক্ষা নিরিক্ষায় দোষী হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করি।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্তে জানা যায়, সোহেল রানা ও স্বপ্না একই ভবনের তৃতীয় তলায় পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করে। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে বাদী ও আসামিদের দুই ফ্ল্যাটের দরজার মাঝে সিঁড়িতে একা পেয়ে সোহেল তার বসতকৃত ফ্ল্যাটের কমন বাথরুমের ভিতর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ভুক্তভোগীর শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে আসামি মৃত লাশ ভেবে গুম করার চেষ্টা করে। উক্ত লাশের দেহ থেকে গলা কেটে, কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে, তার গোপনাঙ্গ ছুরির আঘাতে কেটে ক্ষতবিক্ষত করে।

এসময় ভুক্তভোগীর মা খোঁজ পেয়ে যখন ডাকাডাকি করে তখন আসামিদ্বয় সোহেল রানা ও স্বপ্না ভিতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ দেয় নি। তখন রামিসার মা উপরতলা ও নিচতলার আশপাশের মানুষজন ডাকতে থাকে। একসময় দরজার লক ভাঙতে সক্ষম হয়। তখন দরজার ভাঙা লকের ছিদ্র দিয়ে ভিতরে মেঝেতে রক্ত ও স্বপ্নাকে দেখতে পায়। তখন মামলার সাক্ষী রাজু বার বার দরজা খুলতে বললেও খোলে না। সাক্ষী রাজু লকের ছিদ্র দিয়ে ঘটনাস্থলের ভিডিও করে। বাথরুমের সামনে রক্ত দেখে সবাই দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে প্রবেশ করে সবাই আসামি স্বপ্নাকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করে। স্বপ্না কোনো কথার উত্তর না দিলে সোহেল-স্বপ্নার শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর সেই ঘরের ভিতর একটি স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মাথা বিহিন দেহ দেখতে পায়। এরপর খোঁজাখুঁজি করে বাথরুমের ভিতর একটি রঙের বালতির ভিতর মরদেহের খন্ডিত মাথা দেখতে পায়। এরপর জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে আসামি স্বপ্নাকে পুলিশ হেফাজতে নিই। ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি।

তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান আরও বলেন, স্বপ্না খাতুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে সোহেল রানা। এসময় উত্তেজিত জনতার ডাক চিৎকারে শয়নকক্ষের গ্রীল ভেঙ্গে আসামি সোহেল পালিয়ে যায়। ঘটনার শুরু থেকেই আসামির ধর্ষণ, হত্যা, লাশ গুম করার সময় দরজা না খোলা, সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে স্বপ্না। তিনি সজ্ঞানে স্বেচ্ছায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করায় সেও একই অপরাধে অপরাধী।

এসময় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ। তিনি জানতে চান, ঘটনায় কার কার ১৬১ জবানবন্দি নেন? উত্তরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রামিসার মা, বাবা, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, খালু মনিরুজ্জামান শাহিন ও যিনি ভিডিও করেছেন রাজু।

আসামির আইনজীবী প্রশ্ন করেন, চাচা আর খালুর বাসা একস্থানে না তাদের কেন সাক্ষ্য নিলেন? তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তাদের বাসা দূরে না। ঘটনার সময় চলে আসে। তারা কি দেখেছে, কি করেছে জবানবন্দি নিয়েছি।

জানালা দিয়ে আসামি কোন দিকে গেল দেখেছেন- আইনজীবীর প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আবু সামা নামে একজন দেখেছে। তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আইনজীবী প্রশ্ন করেন, আসামির পালিয়ে যাওয়ার কোনো সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন? তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ওই স্থানে কোনো সিসিটিভি ছিল না। এজন্য কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তখন আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ১৬১ ধারায় সাক্ষীদের জবানবন্দি ছাড়া আর কোন প্রমাণ পাননি তাহলে আপনি। এর উপর ভিত্তি করে চার্জশিট দিয়ে দিলেন? তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লাশ আসামিদের ঘরে পাওয়া গেছে। অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বা শনাক্ত করা যায়নি। সোহেল রানাকে পালাতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে স্বপ্না ছিলেন। তাই সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তখন আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, আপনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, এটা সত্য নয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪