| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ১১:৪৪:৪৬:পূর্বাহ্ন  |  ৩২৩ বার পঠিত
ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়কগুলোতে আবারও ভয়াবহ প্রাণহানির চিত্র উঠে এসেছে। ঈদের আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে সারা দেশে সংঘটিত ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ঈদযাত্রা শেষে এসব তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট প্রাণহানির প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৩ দিনে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ শতাংশেরও বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু এবং ৩৭ জন পথচারী রয়েছেন। এতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে সড়ক দুর্ঘটনা শুধু চালক বা যাত্রীদের নয়, পথচারীদের জন্যও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৯৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রাণহানি হয়েছে সিলেট বিভাগে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কিশোর-তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। সংস্থাটি বলছে, সামগ্রিকভাবে প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমলেও দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি রেল ও নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় কোরবানির জন্য পরিবহন করা ২৪টি গরুও মারা গেছে। এছাড়া ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) শক্তিশালীকরণ, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএ-এর সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি, নিরাপদ সড়ক ও রেলক্রসিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪